নিজস্ব প্রতিবেদক:
মেহেরপুর জেলার গাংনীতে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে হৃদয় হোসেন (২৪) নামে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর, স্থানীয় পুলিশ সাবেক ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান মিলন (৪৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে। আজ বুধবার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাইদুর রহমান মিলন গাংনী উপজেলার চর গোয়াল গ্রামের আব্দুর রহমান ওরফে ফুলচাঁদ মাস্টারের ছোট ছেলে।
জানা গেছে, আজ দুপুরে চর গোয়াল গ্রামের গোরস্থানের প্রবেশ গেট ট্রাক্টরের ধাক্কায় ভেঙে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দু পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এ বিরোধের জেরে রামনগর বাজারে চর গোয়াল গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে হৃদয় হোসেনকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। স্থানীয় মোটরসাইকেল মেকার জান্নাতের সঙ্গে হৃদয়কে হত্যার কাজে সাইদুর রহমান মিলনও তার লোকজনকে সহযোগিতা করে।
আহত হৃদয় হোসেনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বামন্দির সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হৃদয়ের মৃত্যু ঘটানোর পর বিক্ষুব্ধ জনতা জান্নাতের মোটরসাইকেল মেকারের ওয়ার্কশপে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গাংনী থানার ওসি বাণী ইসরাইল বলেন, “জান্নাতের সহযোগী সাইদুর রহমান মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
উল্লেখ্যঃ জান্নাতের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা রয়েছে যা আদালতে বিচারাধীন। মিলন এবং জান্নাত এলাকায় একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। ২০১৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর, দেশীয় তৈরি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি সহ সাইদুর রহমান মিলনকে পুলিশ আটক করেছিল এবং অস্ত্র আইনের মামলায় তাকে দশ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। এরপর ২০২১ সালের ৩ মার্চ আবার ইয়াবাসহ সাইদুর রহমান মিলনকে আটক করা হয়।
এছাড়াও, সাইদুর রহমান মিলন ২০১৭ সালে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছিলেন এবং ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণের পর থেকেই তিনি অস্ত্র ও ইয়াবার ব্যবসায়ের মধ্যে জড়িয়ে পড়েন, যা তাকে স্থানীয়ভাবে ‘অস্ত্র ও ইয়াবা সম্রাট’ হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়।